Archive for the ‘Short Story’ Category

ইসরায়েলের ইতিহাস

July 25, 2014

ইসরায়েলের ইতিহাস
-মাহফুজ খান
গাজা পরিস্থিতি এখন চরম ভয়াবহ। অধিবাসীরা পানি ও খাদ্যসঙ্কটে ভুগছে। রকেট হামলা ঠেকানোর কথা বলেই ইসরায়েল ৮ জুলাই,২০১৪ থেকে গাজায় হামলা শুরু করে। অথচ, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই ইসরাইলের এই জঘন্য হামলার কোন তীব্র প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। কেন করেনি তা ইসরাইলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তা সবার কাছে বোধগম্য হবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন সহ বেশিরভাগ আরব এলাকা চলে যায় ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে। ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধমে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জল হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।

১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত বৃটিশদের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হয়। এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীদের ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯১৯ থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫ হাজারে পৌঁছে যায়। ১৯৩১ সালে ইহুদীদের এই সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছায়। এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়।

১৯১৮ সালে বৃটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত ইহুদী বাহিনী “হাগানাহ” গঠিত হয়। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের অবৈধ রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনী জনগণের বাড়িঘর ও ক্ষেতখামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশ স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

বিশ্বের ৫০টা মুসলিম রাষ্ট্রের ৩০টি দেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। অথচ আজ ইসরাইল কিনা ফিলিস্তিনীদের উৎখাত করতে চাইছে। অমানবিক ভাবে বোমা হামলা করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যা করছে।বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো আজ নিঃশ্চুপ। কেন তারা নিঃশ্চুপ সেটা সহজেই বোধগম্য। কারন ফিলিস্তিনীরা মুসলিম। তাই সময় হয়েছে এ ব্যাপারে সবাইকে চিন্তা করার।

[তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ: উইকিপিডিয়া]।

Advertisements

অবরোধের একদিন

December 20, 2013

অবরোধের একদিন
-মাহফুজ খান

হাসানের ঘুম খুব পাতলা। একটুতেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তু গত তিন ঘন্টা যাবত পল্টনের একটি মেসে সে গভীর ঘুমে প্রায় অচেতন। কারন পার্টির নির্দেশে গত রাতে দুটি জায়গায় রেল লাইনের ফিস প্লেট তোলার মিশনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। পরের দিন সকাল দশটায় আবার পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করতে হবে ঢাকার এই স্হানে। রাতে ঘুমানোর আগে হাসান খুব যত্ন করে দু’টি বোতলে পেট্রল ভরে রেখেছে। পেট্রোলের সাথে আনুপাতিক হারে সাবধানতার সাথে বিশেষ একটি পদার্থও মেশানো হয়েছে যাতে করে মিশন ফেল না হয়। কারন উপর থেকে নির্দেশ এসেছে। খুব নিখুঁত এ্যাটাক করতে হাবে। যে কোন মূল্যে লাশ চাই।

[অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন কল বেজে উঠল]। হাসান তারাহুরো করে মোবাইল কলটি ধরল। তারাতারি মালগুলো নিয়ে নিচে আসো। এখনই এ্যাটাকে আসতে হবে। হাসান প্রায় দৌড়ে নীচে নেমে গেল। ঘুম ঘুম চোখে বোতলগুলো দেখালো। যিনি টিম লিডার তিনি বললেন, “গুড। ভেরি গুড জব”। লিডার হাসানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, চারদিকে কিন্তু পুলিশ। খুব সাবধানে অপারেশনটি চালাতে হবে। আমার ফোন পেলে রেডি হয়ে যাবে। টাইমিংটা যেন পারফেক্ট হয়।

[ফোন কল বেজে উঠল]। হাসান ফোনটি রিসিভ করল। ওপাশ থেকে নির্দেশ আসল, “পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি সিএনজি তোমার সামনে দিয়ে যাবে। ফোন কলটি কেটে গেল। হাসানের বুঝতে অসুবিধা হলনা তার করনীয় সম্পর্কে।

দূরে কিছু পুলিশ অলস সময় কাটাচ্ছে। হাসানের ঘুম ঘুম চোখ দুটি দুহাত দিয়ে ম্যাসেজ করছে। মিশনটি সাকসেস্‌ করতেই হবে। হাসান ২০০ গজ দুরে একটি সিনজিকে আসতে দেখল। সিএনজিটি খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। খুব কাছে আসতেই হাসান তার কাছে রক্ষিত একটি বোতল সিএনজির দিকে ছুড়ে মারল। মুহূর্তের মধ্যে সিএনজিটি ভস্মিভূত হয়ে গেল। পুলিশগুলো হাসানের দিকে দৌড়ে আসতে লাগল। হাসান প্রাণপনে দৌড়াতে লাগল।

দু’ঘন্টা পর। আবার একটি পরিচিত ফোন কল বেজে উঠল।
-হ্যালো হাসান।
– মা, আমি বাসায় আসছি।
-[তাড়াহুড়ো করে, কান্নাজড়িত উচ্চ কন্ঠে] বাবা খুব সর্বনাশ হয়ে গেছে। তোর বাবার সিএনজিতে বোমা মেরছে। আমরা এখন ঢাকা হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি। তুই যেখানেই থাকিস না কেন তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে আয়। আর আসার সময় পারলে কিছু টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আসিস। আমাদের হাত একদম খালি। অতপর ফোন কলটি কেটে গেল।

হাসানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। হতভম্ব হাসানের মুখে নেমে এল পাতালপুরীর নিস্তব্ধতা।

গল্পটি এখানেই শেষ। হাসান এবং তার বাবার পরবর্তী অবস্হা লেখকের জানা নেই। এই গল্পটি একটি বিশেষ মেসেজ বহন করে। আর তা হলো-
জ্ঞানী ব্যক্তিরা নিজের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন, আর বিজ্ঞ ব্যক্তিরা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন।

[গল্পটির কাহিনী এবং চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি কারো চরিত্রের সাথে মিলে যায় তার জন্য লেখক দায়ী নয়।]

জাপানে ইসলামের বিস্তার

December 15, 2013

জাপানে ইসলামের বিস্তার
-মাহফুজ খান
জাপানে আমাদের কর্মক্ষেত্রের পাশেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখা করছে। তাদের মধ্যে যারা মুসলিম তারা তাদের একটি ছাত্রাবাসে জুম্মার নামজ পড়ার ব্যবস্হা করেছে। বিগত তিন বছর থেকে মাঝে মাঝে সেখানে নামাজ পড়তে যাই। গত ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবারে গিয়েছিলাম জুম্মার নামজ পড়তে। একজন ভদ্রলোক আমাকে ছালাম দিলেন। আমি তাঁর ছালামের উত্তর দিলাম। ভারতীয় একজন ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি খুব সুন্দরভাবে ইসলামিক আলোচনা করছিলেন তার খুতবায়। আমরা খুতবা শুনছিলাম। হঠাৎ সেই ভদ্রলোকটির উপর চোখ পড়ে যায়। দেখলাম ভদ্রলোকটি খুব মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শুনছিলেন। তার চোখ দুটি বেশ ভেজা ভেজা লাগছিল। নামায শেষে আবার তাঁর সাথে লিফটে দেখা হয়ে গেল। তিনি হাত বাড়িয়ে পরিচিত হলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘ জাপান’। আমি তো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তার মানে আপনি জাপানিজ। উত্তরে তিনি হেসে বললেন, ‘হ্যা’। আমি শ্রদ্ধ্যায় তার প্রতি কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। এবং মন থেকে একাকী বলে উঠলাম, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন’।
যদিও অধিকাংশ জাপানিরা খুব একটা ধর্ম-কর্ম করে না। তার পরও একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, জাপানের মতো ধর্মীয় সহাবস্থান ও শান্তি আর কোনো দেশে সম্ভবত নেই। এদেশে যে কেউ যে কোন ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। কেউ কাউকে ধর্মীয় ব্যাপারে কোন বাধা প্রদান করে না। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জাপানিদের মতো জাপানি মুসলমানরাও এখানে এখন দেখা যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি মসজিদও তৈরি হয়েছে এবং সেখানে এখন নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সুতরাং একথা এখন খুব গর্ব করে বলা যায় যে, জাপান হচ্ছে অপূর্ব এক ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দেশ, সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ইসলাম ধর্মও কম উজ্জ্বল নয়।

আজ আমার সব ভালবাসা বাবার জন্য

June 16, 2013

আজ আমার সব ভালবাসা বাবার জন্য
-মাহফুজ খান

মনে পড়ে বাবা যখন প্রথম আমাকে একটি খেলনা প্লেন কিনে দেন তখন কি খুশিই না হয়েছিলাম। তার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বেড়ে ওঠার প্রতিটি চাহিদা বাবা যে কিভাবে মিটিয়েছেন তা ভেবে আজও আমি অবাক হই। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় আজ আমি প্রীত।
বাবার অকাল মৃত্যু তের বছর পেরিয়ে গেছে। মনে হয় এইতো সেদিন, বাবা আমাকে আমার নাম ধরে ডাকছেন। বাবার মৃত্যু আজও আমার কাছে একটি স্বপ্ন।

আজ আমিও একজন গর্বিত বাবা। আমার সন্তান যখন আমাকে বাবা বলে ডাকে তখন মনে হয় পৃথিবীর সব শান্তি এই ডাকটিতে। সে যখন বলে, ‘বাবা তোমাকে ভালবাসি’, তখন হৃদয়ে অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করি। ‘বাবা তোমাকে ভালবাসি’ – এই কথাটি বাবাকে কখনই বলা হয় নাই। এই কষ্টটি আজও আমাকে ভীষণ কাঁদায়। অথচ যখন শিশু ছিলাম,বাবা কতইনা মিষ্টি কথা বলে, যাদু সোনামণি বলে মজার সব রূপকথার গল্প বলে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। আজ বাবাকে ভীষণভাবে মনে পড়ছে। অতি সাধারণ হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারন এক লালনকর্তা, পালনকর্তা এবং প্রয়োজনের নিরব যোগানদাতা। বাবার কাছে কত কিছুই না আব্দার করেছি। শত কষ্ট সত্বেও তিনি তা পূরণ কারার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আসলে পৃথিবীর সব বাবাই এক শীতল ছায়াদানকারী বট বৃক্ষ। যে বৃক্ষের ছায়াতলে সব সন্তানই নিরাপদ। পিতৃ স্নেহ যে কত মধুর তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব একটি কাজ। আজ সেই মধুর পিতৃ স্নেহকে সর্বচ্চ সম্নান ও ভালবাসা জানাই।

পিতৃত্ব নিঃসন্দেহে একটি স্বর্গীয় অনুভতি।  জয় হোক  পিতা ও পিতৃত্ব দিবস।

[একটি প্রবন্ধ]

আসুন আমাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই সাভার বাসীর জন্য

April 25, 2013

আসুন আমাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই সাভার বাসীর জন্য
-মাহফুজ খান
লাশের পর লাশ জমা হচ্ছে। কত জন আটকে পড়েছে, তা জানা নেই। স্বজনদের কান্নার শব্দে বাতাস আজ বেশ ভারী। আহতদের জীবন বাঁচানোর জন্য হাজার হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। আটকে পড়া অসহায় মানুষদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে অক্সিজেন ও খাদ্যের। যারা পঙ্গু হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়ে্জন অর্থের। এত সব সমস্যা সমাধানের পথ হয়ত অসহায় মানুষদের জানা নেই। কিন্তু আমরা যারা বেশ ভালো আছি, আমরা জানি সমাধান কি হতে পারে? আসুন সবাই মিলে একটু সাহায্য এবং সহযোগিতা করি। সাভার বাসী আজ এই বিপদে উপকৃত হোক আমাদের ভালোবাসায়। দুই/একদিন সিগারেট বা স্ন্যাকস না খেলে আমাদের তেমন কিছুই হবে না। কিন্তু এতে উপকৃত হতে পারে সেই সব অসহায় মানুষদের মূল্যবান জীবন। মানুষের জন্য ভালোবাসাই হোক আজ আমাদের উৎসাহ। আসুন সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি।

আজ ভালোবাসার রঙে রাঙাও তোমাকে

February 4, 2013

আজ ভালোবাসার  রঙে রাঙাও তোমাকে
-মাহফুজ খান

ভালোবাসার এই দিনে তুমি এসো তার কাছে, কিছু লাল গোলাপ নিয়ে। কেননা এই রঙ তাকে ভালোবাসার রঙে রাঙাবে। তুমি ও সে, তোমরা মিলে সাদা রঙে সাজিও তোমাদের। কেননা এ রঙ ভালোবাসার সরলতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের ভালোবাসার প্রেমময় মাধুরী উপভোগ করবে তাহলে তোমরা তোমাদেরকে গোলাপী রঙে রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদের ভালোবাসাকে আবেগময় ও পুলকিত করবে। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের বন্ধুত্বকে এখন প্রেমে পরিণত করবে তাহলে তোমরা তোমাদেরকে হলুদ,কমলা কিংবা ম্যাজেন্টা রঙে রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদেরকে ভালোবাসার প্রতি প্রীত করবে। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের ভালোবাসায় অনুপম গভীরতা ও আত্মিকতা খুঁজে পাও তাহলে হালকা বেগুনী রঙে রাঙিও তোমাদের। আর যদি এমন মনে হয় যে, তোমাদের সম্পর্ক অটুট ও অনন্য তাহলে ভালোবাসা দিবসে তুমি ও তোমরা মিলে রক্তবর্ণ অথবা জাম রঙে তোমাদের রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদের ভালোবাসাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজ এই ভালোবাসা দিবসে যেমন ইচ্ছে তেমন রঙে তুমি তোমাকে রাঙাও।

শুভ হোক, তোমার ও তোমাদের রঙিন ভালোবাসা।

মুখ ও মুখোশ

February 1, 2013

মুখ ও মুখোশ
-মাহফুজ খান

মানুষের মুখ যে কোন জীবের চেয়ে সুন্দর- এ বিষয়ে যেমন কোন তর্ক করার অবকাশ নাই। ঠিক তেমনি মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব- এ বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই। মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রহিয়াছে বিবেক, বুদ্ধি, মন ও মস্তিস্ক। এই সকল মানবিক গুনাবলি মানুষকে সকল জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করিয়া তোলে। মানুষ তাঁহার এই সমস্ত গুণাবলীকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করিয়া সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠন করিতে পারে। মনুষ্য জগতে এই ধরনের সুন্দর ব্যক্তিত্বের মানুষ সবারই একান্ত কাম্য। মানুষ তাহার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের ব্যক্তিত্বকে ভুলে গিয়ে মুখোশ পড়িয়া বিভিন্ন রকম কার্য-কর্মে লিপ্ত থাকে যাহা সাধারন ভাবে কাহারো কাম্য হইতে পারে না। এই সমস্ত মানুষ নিজের স্বার্থের জন্যই সবসময় কাজ করিয়া থাকে। স্বার্থের জন্য যে তাহারা নিজের অস্তিত্বকেও বিসর্জন দিয়ে যাইতেছে তাহারা সেটা বুঝিতে পারে না। সর্বদাই তাহারা মিষ্টি কথার ছলে মানুষকে ফাঁসায় বা বিপদে ফেলিয়া দেয়। নিজেদের প্রয়োজনে মানুষকে খাটিয়ে মারে। কিন্তু অন্যের জন্য সামান্য সাহায্য করতেও তাহারা নারাজ। তবে নিজের স্বার্থের প্রয়োজন দেখা দিলে যাঁহার হইতে সাহায্য পাওয়া যাইবে তাঁহার জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগে। সুতরাং বলা যায় এই ধরনের মানুষ যে কোন সময় যে কোন মুখোশ পরিধান করতি পারে। এই ধরনের মুখোশ পড়া মানুষ সমাজ ও ব্যক্তির জন্য কলঙ্ক স্বরূপ।

মিষ্টিভাষী অন্তরে বিষ ভরা মানুষগুলোকে আমাদের চিনিতে হইবে। তাহাদের মুখোশ খুলিয়া সমাজের সামনে বাহির করিয়া আনার দায়িত্বটা তো আমাদেরই। তাহা না হইলে এই সব মানুষ চিরদিনই নিঃশব্দে মানুষকে কষ্ট দিয়ে যাইবে।  মুখের পরিবর্তে মুখোশ নিঃসন্দেহে সকলের দ্বারা পরিতাজ্য হইবে- ইহাই একান্ত কাম্য।

সমাজে সুন্দর মনের মুখগুলো সবার হৃদয়কে আকৃষ্ট করুক-ইহাই হউক সকলের দ্বারা সমর্থিত ও প্রমাণীত একটি সরল উপপাদ্য।

[একটি চিন্তামূলক রচনা]

সময় ভ্রমণ

December 31, 2012

সময় ভ্রমণ
-মাহফুজ খান

সকাল বেলাতে স্কুলের প্রিয় এক বন্ধু’র সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল। কথা প্রসঙ্গে সে একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানালো। আমদের এস.এস.সি পাশ করা নাকি ২০ বছর হয়ে গেছে। আমি তো অবাক। তাহলে এখন আমাদের বয়স কত? বয়স গনণা করতে গিয়ে তো রীতিমতো অবাক হলাম। কিভাবে এতগুলো বছর কেটে গেল বুঝতেও পারলাম না। অনেক কিছুই তো এখনো বাকি। সময় ভ্রমণে যুবকবেলার শেষ প্রান্তে অবস্হান করছি। কত কিছুই না করতে চেয়েছিলাম, অনেক কিছু এখনো করা হয়ে ওঠেনি।

স্মরণ করতে থাকলাম বন্ধুদের প্রিয় মুখগুলো। অনেক ভালো লাগছে তাদের কথা ভাবতে। তারা সবাই এখন ভীষণ ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছে। একই শহরে অবস্হান সত্বেও বন্ধুদের সাথে দেখা-সাক্ষাত হয়ে উঠছে না। অনেকে আবার আমার মত প্রবাসী। এক বন্ধুর কাছে অন্য সবার খবরা-খবর নিতে হচ্ছে। এতটুকুতেই শান্ত থকতে হচ্ছে।

খুব ইচ্ছে হয়, যদি সময় ভ্রমণে অতীতে যেতে পারতাম। বন্ধুদের নিয়ে আবার মজার সময় কাটানো যেত।
জানি এটা সম্ভব নয়। তাই তো স্মৃতির পাতাগুলো সময় করে উল্টাতে থাকি। বেশ ভালো লাগে।

যে বন্ধুকে আজও খুঁজি

December 27, 2012

যে বন্ধুকে আজও খুঁজি
-মাহফুজ খান

যে বন্ধুটিকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে ফেলেছি, তাকে আজও খুঁজি।
যার সাথে কিশোর বেলাগুলোর বেশীর ভাগ সময় কেটেছে কতই না আনন্দঘন পরিবেশে, সেই বন্ধুটিকে আজও খুঁজি। কতইনা দুষ্টমি করেছি এক সাথে। এক সাথে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া, এক সাথে ঘুড়ে বেড়ানো এদিক সেদিক। হৃদয় আজও ব্যাকুল বন্ধুটির জন্য। জানি না বন্ধুটির কাছে আমার এ লেখাটি পৌঁছুবে কিনা।
“A good friend is hard to find, hard to lose, and impossible to forget…”

তোকে আজও ভুলতে পারিনি বন্ধু। ভালো থাকিস। যদি আমার এ লেখাটি তোর চোখে পড়ে কখনো, তবে বন্ধু ফোন দিস। আমি তোর অপেক্ষায় থাকলাম।

মেঘে মেঘে হাটা

December 7, 2012

মেঘে মেঘে হাটা

মাহফুজ খান

()

চারিদিকে শুভ্র মেঘমালা। সাবিহা এক একটি মেঘের চলে যাওয়া উপভোগ করছে। সে এই মেঘগুলোর উপর দিয়ে হেটে হেটে সুন্দর একটি বাগানে প্রবেশ করল। অসম্বভ সুন্দর একটি বাগান। কি নেই এতে। তার মনটা স্নিগ্ধ হয়ে গেল। আবেগে তার দুচোখ অশ্রুজলে শীতল হলো। হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে গেল ঘড়ির এলার্মে। পাশ ফিরতেই স্বামীর মুখ খানা ভেসে উঠলো। সাথে সাথে সে একটি দোয়া পড়ে নিলো, যাতে স্বামীর মঙ্গল হয়। ভালোবাসার দৃষ্টিতে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর তার শান্ত হাতখানি দিয়ে স্বামীর শরীরটি আলতো করে ছুঁয়ে দিল। এই, শুনছো। ওঠো বলছি। ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে। নামায পড়তে হবে। পলাশ ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে উঠলো, বিরক্ত করছো কেন্? ঘুমোতে দাও।

সাবিহা বিছানা ছেড়ে একাই উঠে পড়ল। দূর থেকে কোরআনের ধ্বনি ভেসে আসছে। সাবিহার অনেক ভালো লাগছে। কি সুন্দর করেই না অচেনা এক ব্যক্তি সুমিষ্ট কন্ঠে কোরআন তেলোয়াত করছে। সাবিহা আয়াতটির বাংলা করার চেষ্টা করল

তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (সূরা আল্‌মুল্‌ক, আয়াতঃ ১৩)

()

ছুটির দিন। আজ সাবিহার অনেক ভালো লাগছে। মনে মনে সে পরিকল্পনা করছে, আজ কি কি করবে? কোথায় বাচ্চাদের নিযে ঘুরতে যাবে। এমন সময় মোবাইলে মেসেজ রিংটোন বেজে উঠলো। মেসেজটা সাবিহা পড়ল এক নিঃশ্বাসে। “Honey! I am waiting for you. Come hurry, we will lunch together. … Your love Suzana.” বাকি লেখাগুলো এতটাই কুরুচিপূর্ণ যে সাবিহা আর সহ্য করতে পারল না। সাবিহার দুচোখের অশ্রু বাচ্চাদের নজর এড়াতে পারল না। বাচ্চারা সাবিহাকে জড়িয়ে ধরল, ‘মামনি, কাঁদছো কেন?’ সাবিহা নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে বলল, ‘কিছু হয়নি সোনামনিরা। তোমাদের নানুর কথা খুব মনে পড়ছে। বাচ্চারা মাকে অনুরোধ করল, ‘বাবাকে বল, আজ দুপুরে আমরা এক সাথে খাবো। দেখবে তোমর মন ভাল হয়ে গেছে। সাবিহা তার হৃদয়ের কান্নাকে আজ থামাতে পারছে না। শান্ত থাকার চেষ্টা করল। বাচ্চারা একটু পরেই খেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাবিহা দুহাত তুলে প্রর্থণা করল, ‘ক্ষমা করো প্রভু, ক্ষমা করো আমাদের

()

সকাল ১০টা। পলাশ গোসল শেষে খুব সেজেগুজে বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাবিহা শান্ত কন্ঠে জিঙ্গাসা করল, ‘কোথায় যাচ্ছ‘? উত্তরে পলাশ বলল, ‘একটা জরুরী বিজনেস মিটিং আছে। যেতেই হবে। সাবিহা বলল, ‘বাচ্চারা আজ তোমার সাথে দুপুরে খেতে চাইছে। উত্তরে পলাশ বলল, ‘আমি তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো

পলাশ চলে যেতেই, সাবিহা বাথরুমে গেল। গলার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে বমি করে নিজেকে হালকা করল। সময় নিয়ে গোসল করতে করতে গত রাতের স্বামীর মিথ্যে ভালবাসার কথা স্মরণ করল। খানিক্ষণ শব্দ করে কাঁদল।

()

বিকাল ৪ টা। সাবিহা আসরের নামায শেষে কোরআন পড়ছে।

পলাশ সাবিহার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সাবিহার দৃষ্টি পলাশের দিকে যেতেই পলাশ তার মুখখানা অন্যদিকে সরিয়ে নিল। সাবিহা কোরআর শরীফটি তিনবার চুমু খেয়ে টেবিলে রাখলো। পলাশের পাশে এসে বসল। জিঙ্গাসা করল, কিছু বলবে? পলাশ বলল, একটু আগে যে লাইনটা পড়লে তার অর্থ কি ? সাবিহা জবাব দিল

তিনিই আল্লাহ নভোমন্ডলে এবং ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা কর তাও অবগত।” (সূরা আল্‌আনআম, আয়াতঃ ৩)

পলাশ নির্বাক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। গুচ্ছ মেঘগুলো দূর আকাশে ভেসে যাচ্ছে। তবে মেঘগুলো আজ কালো। পলাশের মনে হলো, সে যেন ঐ মেঘগুলোতে চড়ে কোন এক অজানা ভয়ের দিকে যাচ্ছে। যেখানে কষ্টগুলো তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সে খুবই শঙ্কিত হল। সাবিহা মৃদু ধাক্কা দিল পলাশকে। তবুও যেন পলাশের চোখ অবনিত হয় না। সে তাকিয়ে আছে অন্য এক মনে। সাবিহা ডেকে উঠল, কি হলো তোমার। কিছু বলবে? পলাশ নিঃশ্চুপ।

[গল্পটির চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি কোন ব্যক্তির সাথে আংশিক বা সম্পূর্ণ মিলে যায় তার জন্য লেখক দায়ী নয়।]