Archive for December, 2013

অবরোধের একদিন

December 20, 2013

অবরোধের একদিন
-মাহফুজ খান

হাসানের ঘুম খুব পাতলা। একটুতেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তু গত তিন ঘন্টা যাবত পল্টনের একটি মেসে সে গভীর ঘুমে প্রায় অচেতন। কারন পার্টির নির্দেশে গত রাতে দুটি জায়গায় রেল লাইনের ফিস প্লেট তোলার মিশনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। পরের দিন সকাল দশটায় আবার পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করতে হবে ঢাকার এই স্হানে। রাতে ঘুমানোর আগে হাসান খুব যত্ন করে দু’টি বোতলে পেট্রল ভরে রেখেছে। পেট্রোলের সাথে আনুপাতিক হারে সাবধানতার সাথে বিশেষ একটি পদার্থও মেশানো হয়েছে যাতে করে মিশন ফেল না হয়। কারন উপর থেকে নির্দেশ এসেছে। খুব নিখুঁত এ্যাটাক করতে হাবে। যে কোন মূল্যে লাশ চাই।

[অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন কল বেজে উঠল]। হাসান তারাহুরো করে মোবাইল কলটি ধরল। তারাতারি মালগুলো নিয়ে নিচে আসো। এখনই এ্যাটাকে আসতে হবে। হাসান প্রায় দৌড়ে নীচে নেমে গেল। ঘুম ঘুম চোখে বোতলগুলো দেখালো। যিনি টিম লিডার তিনি বললেন, “গুড। ভেরি গুড জব”। লিডার হাসানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, চারদিকে কিন্তু পুলিশ। খুব সাবধানে অপারেশনটি চালাতে হবে। আমার ফোন পেলে রেডি হয়ে যাবে। টাইমিংটা যেন পারফেক্ট হয়।

[ফোন কল বেজে উঠল]। হাসান ফোনটি রিসিভ করল। ওপাশ থেকে নির্দেশ আসল, “পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি সিএনজি তোমার সামনে দিয়ে যাবে। ফোন কলটি কেটে গেল। হাসানের বুঝতে অসুবিধা হলনা তার করনীয় সম্পর্কে।

দূরে কিছু পুলিশ অলস সময় কাটাচ্ছে। হাসানের ঘুম ঘুম চোখ দুটি দুহাত দিয়ে ম্যাসেজ করছে। মিশনটি সাকসেস্‌ করতেই হবে। হাসান ২০০ গজ দুরে একটি সিনজিকে আসতে দেখল। সিএনজিটি খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। খুব কাছে আসতেই হাসান তার কাছে রক্ষিত একটি বোতল সিএনজির দিকে ছুড়ে মারল। মুহূর্তের মধ্যে সিএনজিটি ভস্মিভূত হয়ে গেল। পুলিশগুলো হাসানের দিকে দৌড়ে আসতে লাগল। হাসান প্রাণপনে দৌড়াতে লাগল।

দু’ঘন্টা পর। আবার একটি পরিচিত ফোন কল বেজে উঠল।
-হ্যালো হাসান।
– মা, আমি বাসায় আসছি।
-[তাড়াহুড়ো করে, কান্নাজড়িত উচ্চ কন্ঠে] বাবা খুব সর্বনাশ হয়ে গেছে। তোর বাবার সিএনজিতে বোমা মেরছে। আমরা এখন ঢাকা হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি। তুই যেখানেই থাকিস না কেন তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে আয়। আর আসার সময় পারলে কিছু টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আসিস। আমাদের হাত একদম খালি। অতপর ফোন কলটি কেটে গেল।

হাসানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। হতভম্ব হাসানের মুখে নেমে এল পাতালপুরীর নিস্তব্ধতা।

গল্পটি এখানেই শেষ। হাসান এবং তার বাবার পরবর্তী অবস্হা লেখকের জানা নেই। এই গল্পটি একটি বিশেষ মেসেজ বহন করে। আর তা হলো-
জ্ঞানী ব্যক্তিরা নিজের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন, আর বিজ্ঞ ব্যক্তিরা অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করেন।

[গল্পটির কাহিনী এবং চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি কারো চরিত্রের সাথে মিলে যায় তার জন্য লেখক দায়ী নয়।]

জাপানে ইসলামের বিস্তার

December 15, 2013

জাপানে ইসলামের বিস্তার
-মাহফুজ খান
জাপানে আমাদের কর্মক্ষেত্রের পাশেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখা করছে। তাদের মধ্যে যারা মুসলিম তারা তাদের একটি ছাত্রাবাসে জুম্মার নামজ পড়ার ব্যবস্হা করেছে। বিগত তিন বছর থেকে মাঝে মাঝে সেখানে নামাজ পড়তে যাই। গত ১৩ ডিসেম্বর, শুক্রবারে গিয়েছিলাম জুম্মার নামজ পড়তে। একজন ভদ্রলোক আমাকে ছালাম দিলেন। আমি তাঁর ছালামের উত্তর দিলাম। ভারতীয় একজন ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি খুব সুন্দরভাবে ইসলামিক আলোচনা করছিলেন তার খুতবায়। আমরা খুতবা শুনছিলাম। হঠাৎ সেই ভদ্রলোকটির উপর চোখ পড়ে যায়। দেখলাম ভদ্রলোকটি খুব মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শুনছিলেন। তার চোখ দুটি বেশ ভেজা ভেজা লাগছিল। নামায শেষে আবার তাঁর সাথে লিফটে দেখা হয়ে গেল। তিনি হাত বাড়িয়ে পরিচিত হলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘ জাপান’। আমি তো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তার মানে আপনি জাপানিজ। উত্তরে তিনি হেসে বললেন, ‘হ্যা’। আমি শ্রদ্ধ্যায় তার প্রতি কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। এবং মন থেকে একাকী বলে উঠলাম, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন’।
যদিও অধিকাংশ জাপানিরা খুব একটা ধর্ম-কর্ম করে না। তার পরও একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, জাপানের মতো ধর্মীয় সহাবস্থান ও শান্তি আর কোনো দেশে সম্ভবত নেই। এদেশে যে কেউ যে কোন ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। কেউ কাউকে ধর্মীয় ব্যাপারে কোন বাধা প্রদান করে না। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জাপানিদের মতো জাপানি মুসলমানরাও এখানে এখন দেখা যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি মসজিদও তৈরি হয়েছে এবং সেখানে এখন নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সুতরাং একথা এখন খুব গর্ব করে বলা যায় যে, জাপান হচ্ছে অপূর্ব এক ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দেশ, সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ইসলাম ধর্মও কম উজ্জ্বল নয়।