Archive for February, 2013

এ কোন বিভক্তি?

February 25, 2013

এ কোন বিভক্তি?
-মাহফুজ খান

দেশ প্রেমে চেতনা নেই রাজনৈতিক নেতাদের
নেই কোন ঐক্য, যে যার মত যে।
একে অন্যকে বলছে শিয়া-সুন্নী-কাদিয়ানী
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান।
কেউবা বলছে নাস্তিক,
কেউবা বলছে ফ্যাসিবাদী।
ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে নেই কোন মিল,
একে অন্যকে বলছে ধর্মের শত্রু।
আমিই কেবল পাপী এবং অজ্ঞ,
তাই বড্ড জানতে ইচ্ছে করে,
ধর্ম এবং রাজনীতিকে আর কতটা ভাগ করলে
এদেশে রাজাকরের বিচার হওয়া সম্ভব।

Advertisements

জয় হোক ‘গণজাগরণ মঞ্চে’র

February 24, 2013

জয় হোক ‘গণজাগরণ মঞ্চে’র
-মাহফুজ খান

নয় কোন ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি
নয় কোন সন্ত্রাসবাদের উস্কানি
নয় কোন  কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার
নয় কোন নাস্তিকতা
আজ থেকে বাংলাদেশ হোক
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
শাহবাগ আন্দোলন হোক
সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর-এর
মূল চেতনা।
জেগে উঠুক আমাদের দেশ প্রেম।
দাবী শুধু একটাই-
ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই।
ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই
রাজাকারের ফাঁসি চাই।
জয় হোক তারুণ্যের
জয় হোক-
শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চে’র।

বিবেক

February 21, 2013
বিবেক
-মাহফুজ খান
যে আত্মা বিবেক দ্বারা পরিচালিত নয়
সে আত্মা পরিশুদ্ধ হতে পারে না।

ফাঁসি চাই

February 21, 2013

ফাঁসি চাই
-মাহফুজ খান

ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া
আকাশ বাতাশ বিদীর্ণ করিয়া
পাহাড়-পর্বতে প্রতিধ্ধনি তুলিয়া
একটাই শ্লোগান শুধু দিতে চাই-
ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই,
রাজাকারের ফাঁসি চাই।

তিন মিনিটের নিরাবতা

February 12, 2013

অফিস থেকে বাসায় যেতে আমাকে একটি ট্রেন বদলাতে হয় শিনাগাওয়াতে। বাংলাদেশের সময় যখন বিকেল ৪ টা তখন জাপানে সন্ধ্যা ৭ টা। যথারিতি আমি দাড়িয়ে আছি প্লাটফর্মে। ট্রেন আসল কিন্তু আমি উঠছিনা দেখে একজন বলল এই ট্রেনটা শিনাগাওয়া যাবে। আমি তবুও দাড়িয়ে আছি দেখে সে একটু অবাকই হল। সে জানেনা আমি কি জন্য দাড়িয়ে আছি। আমার মনটা যে তখন বাংলাদেশের গনজাগরণের সাথে এক হয়ে ছিল একটানা তিন মিনিট। মনে মনে ঘৃণা জানিয়েছি সেই সব যুদ্ধ আপরাধীদের যারা গত ৪২ বছর ধরে এদেশের মানুষের সামনে আট্টহাসি হেসেছে।মনের ভিতরে একটাই শ্লোগানের প্রতিধ্ধনি শুনতে পাচ্ছিলাম- “ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই”।

দ্য স্পিরিট অব ৭১

February 10, 2013

দ্য স্পিরিট অব ৭১
-মাহফুজ খান

ভয় নেই হে তরুণ, দামাল বঙ্গ সন্তান
ভয় নেই তোমার,
আজ কোন ভয় নেই।
এক নতুন জাগরণের স্বপ্ন তুমি,
এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিক নির্দেশনা তুমি,
এগিয়ে যাও হার না মানার শপথ নিয়ে।
এ লড়াই আজ
বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই,
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই,
মিথ্যার বিরুদ্বে সত্যের লড়াই।

তরুণ তুমি গর্জে ওঠো বারংবার
যত বাধা আসে আসুক
ভেঙ্গে দাও তা তারুণ্যের শক্তি দিয়ে,
আজ তোমাদের জিততেই হবে।
বিবেককে নীচে নামিও না, হে তরুণ
যদি পৃথিবীর সব অর্থ তোমার পায়ে ঢেলে দেয় কেউ
জ্বালিয়ে দাও তা তারুণ্যের আগুনে।

আজ উল্লাস কর তোমার অসীম শক্তির সামর্থ্য দেখে।

আজ ভালোবাসার রঙে রাঙাও তোমাকে

February 4, 2013

আজ ভালোবাসার  রঙে রাঙাও তোমাকে
-মাহফুজ খান

ভালোবাসার এই দিনে তুমি এসো তার কাছে, কিছু লাল গোলাপ নিয়ে। কেননা এই রঙ তাকে ভালোবাসার রঙে রাঙাবে। তুমি ও সে, তোমরা মিলে সাদা রঙে সাজিও তোমাদের। কেননা এ রঙ ভালোবাসার সরলতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের ভালোবাসার প্রেমময় মাধুরী উপভোগ করবে তাহলে তোমরা তোমাদেরকে গোলাপী রঙে রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদের ভালোবাসাকে আবেগময় ও পুলকিত করবে। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের বন্ধুত্বকে এখন প্রেমে পরিণত করবে তাহলে তোমরা তোমাদেরকে হলুদ,কমলা কিংবা ম্যাজেন্টা রঙে রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদেরকে ভালোবাসার প্রতি প্রীত করবে। যদি এমন হয়, তোমরা তোমাদের ভালোবাসায় অনুপম গভীরতা ও আত্মিকতা খুঁজে পাও তাহলে হালকা বেগুনী রঙে রাঙিও তোমাদের। আর যদি এমন মনে হয় যে, তোমাদের সম্পর্ক অটুট ও অনন্য তাহলে ভালোবাসা দিবসে তুমি ও তোমরা মিলে রক্তবর্ণ অথবা জাম রঙে তোমাদের রাঙিও। কেননা এ রঙ তোমাদের ভালোবাসাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজ এই ভালোবাসা দিবসে যেমন ইচ্ছে তেমন রঙে তুমি তোমাকে রাঙাও।

শুভ হোক, তোমার ও তোমাদের রঙিন ভালোবাসা।

মুখ ও মুখোশ

February 1, 2013

মুখ ও মুখোশ
-মাহফুজ খান

মানুষের মুখ যে কোন জীবের চেয়ে সুন্দর- এ বিষয়ে যেমন কোন তর্ক করার অবকাশ নাই। ঠিক তেমনি মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব- এ বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই। মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রহিয়াছে বিবেক, বুদ্ধি, মন ও মস্তিস্ক। এই সকল মানবিক গুনাবলি মানুষকে সকল জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করিয়া তোলে। মানুষ তাঁহার এই সমস্ত গুণাবলীকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করিয়া সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠন করিতে পারে। মনুষ্য জগতে এই ধরনের সুন্দর ব্যক্তিত্বের মানুষ সবারই একান্ত কাম্য। মানুষ তাহার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের ব্যক্তিত্বকে ভুলে গিয়ে মুখোশ পড়িয়া বিভিন্ন রকম কার্য-কর্মে লিপ্ত থাকে যাহা সাধারন ভাবে কাহারো কাম্য হইতে পারে না। এই সমস্ত মানুষ নিজের স্বার্থের জন্যই সবসময় কাজ করিয়া থাকে। স্বার্থের জন্য যে তাহারা নিজের অস্তিত্বকেও বিসর্জন দিয়ে যাইতেছে তাহারা সেটা বুঝিতে পারে না। সর্বদাই তাহারা মিষ্টি কথার ছলে মানুষকে ফাঁসায় বা বিপদে ফেলিয়া দেয়। নিজেদের প্রয়োজনে মানুষকে খাটিয়ে মারে। কিন্তু অন্যের জন্য সামান্য সাহায্য করতেও তাহারা নারাজ। তবে নিজের স্বার্থের প্রয়োজন দেখা দিলে যাঁহার হইতে সাহায্য পাওয়া যাইবে তাঁহার জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগে। সুতরাং বলা যায় এই ধরনের মানুষ যে কোন সময় যে কোন মুখোশ পরিধান করতি পারে। এই ধরনের মুখোশ পড়া মানুষ সমাজ ও ব্যক্তির জন্য কলঙ্ক স্বরূপ।

মিষ্টিভাষী অন্তরে বিষ ভরা মানুষগুলোকে আমাদের চিনিতে হইবে। তাহাদের মুখোশ খুলিয়া সমাজের সামনে বাহির করিয়া আনার দায়িত্বটা তো আমাদেরই। তাহা না হইলে এই সব মানুষ চিরদিনই নিঃশব্দে মানুষকে কষ্ট দিয়ে যাইবে।  মুখের পরিবর্তে মুখোশ নিঃসন্দেহে সকলের দ্বারা পরিতাজ্য হইবে- ইহাই একান্ত কাম্য।

সমাজে সুন্দর মনের মুখগুলো সবার হৃদয়কে আকৃষ্ট করুক-ইহাই হউক সকলের দ্বারা সমর্থিত ও প্রমাণীত একটি সরল উপপাদ্য।

[একটি চিন্তামূলক রচনা]