মেঘে মেঘে হাটা

মেঘে মেঘে হাটা

মাহফুজ খান

()

চারিদিকে শুভ্র মেঘমালা। সাবিহা এক একটি মেঘের চলে যাওয়া উপভোগ করছে। সে এই মেঘগুলোর উপর দিয়ে হেটে হেটে সুন্দর একটি বাগানে প্রবেশ করল। অসম্বভ সুন্দর একটি বাগান। কি নেই এতে। তার মনটা স্নিগ্ধ হয়ে গেল। আবেগে তার দুচোখ অশ্রুজলে শীতল হলো। হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে গেল ঘড়ির এলার্মে। পাশ ফিরতেই স্বামীর মুখ খানা ভেসে উঠলো। সাথে সাথে সে একটি দোয়া পড়ে নিলো, যাতে স্বামীর মঙ্গল হয়। ভালোবাসার দৃষ্টিতে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর তার শান্ত হাতখানি দিয়ে স্বামীর শরীরটি আলতো করে ছুঁয়ে দিল। এই, শুনছো। ওঠো বলছি। ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে। নামায পড়তে হবে। পলাশ ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে উঠলো, বিরক্ত করছো কেন্? ঘুমোতে দাও।

সাবিহা বিছানা ছেড়ে একাই উঠে পড়ল। দূর থেকে কোরআনের ধ্বনি ভেসে আসছে। সাবিহার অনেক ভালো লাগছে। কি সুন্দর করেই না অচেনা এক ব্যক্তি সুমিষ্ট কন্ঠে কোরআন তেলোয়াত করছে। সাবিহা আয়াতটির বাংলা করার চেষ্টা করল

তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (সূরা আল্‌মুল্‌ক, আয়াতঃ ১৩)

()

ছুটির দিন। আজ সাবিহার অনেক ভালো লাগছে। মনে মনে সে পরিকল্পনা করছে, আজ কি কি করবে? কোথায় বাচ্চাদের নিযে ঘুরতে যাবে। এমন সময় মোবাইলে মেসেজ রিংটোন বেজে উঠলো। মেসেজটা সাবিহা পড়ল এক নিঃশ্বাসে। “Honey! I am waiting for you. Come hurry, we will lunch together. … Your love Suzana.” বাকি লেখাগুলো এতটাই কুরুচিপূর্ণ যে সাবিহা আর সহ্য করতে পারল না। সাবিহার দুচোখের অশ্রু বাচ্চাদের নজর এড়াতে পারল না। বাচ্চারা সাবিহাকে জড়িয়ে ধরল, ‘মামনি, কাঁদছো কেন?’ সাবিহা নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে বলল, ‘কিছু হয়নি সোনামনিরা। তোমাদের নানুর কথা খুব মনে পড়ছে। বাচ্চারা মাকে অনুরোধ করল, ‘বাবাকে বল, আজ দুপুরে আমরা এক সাথে খাবো। দেখবে তোমর মন ভাল হয়ে গেছে। সাবিহা তার হৃদয়ের কান্নাকে আজ থামাতে পারছে না। শান্ত থাকার চেষ্টা করল। বাচ্চারা একটু পরেই খেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাবিহা দুহাত তুলে প্রর্থণা করল, ‘ক্ষমা করো প্রভু, ক্ষমা করো আমাদের

()

সকাল ১০টা। পলাশ গোসল শেষে খুব সেজেগুজে বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাবিহা শান্ত কন্ঠে জিঙ্গাসা করল, ‘কোথায় যাচ্ছ‘? উত্তরে পলাশ বলল, ‘একটা জরুরী বিজনেস মিটিং আছে। যেতেই হবে। সাবিহা বলল, ‘বাচ্চারা আজ তোমার সাথে দুপুরে খেতে চাইছে। উত্তরে পলাশ বলল, ‘আমি তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো

পলাশ চলে যেতেই, সাবিহা বাথরুমে গেল। গলার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে বমি করে নিজেকে হালকা করল। সময় নিয়ে গোসল করতে করতে গত রাতের স্বামীর মিথ্যে ভালবাসার কথা স্মরণ করল। খানিক্ষণ শব্দ করে কাঁদল।

()

বিকাল ৪ টা। সাবিহা আসরের নামায শেষে কোরআন পড়ছে।

পলাশ সাবিহার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সাবিহার দৃষ্টি পলাশের দিকে যেতেই পলাশ তার মুখখানা অন্যদিকে সরিয়ে নিল। সাবিহা কোরআর শরীফটি তিনবার চুমু খেয়ে টেবিলে রাখলো। পলাশের পাশে এসে বসল। জিঙ্গাসা করল, কিছু বলবে? পলাশ বলল, একটু আগে যে লাইনটা পড়লে তার অর্থ কি ? সাবিহা জবাব দিল

তিনিই আল্লাহ নভোমন্ডলে এবং ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা কর তাও অবগত।” (সূরা আল্‌আনআম, আয়াতঃ ৩)

পলাশ নির্বাক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। গুচ্ছ মেঘগুলো দূর আকাশে ভেসে যাচ্ছে। তবে মেঘগুলো আজ কালো। পলাশের মনে হলো, সে যেন ঐ মেঘগুলোতে চড়ে কোন এক অজানা ভয়ের দিকে যাচ্ছে। যেখানে কষ্টগুলো তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সে খুবই শঙ্কিত হল। সাবিহা মৃদু ধাক্কা দিল পলাশকে। তবুও যেন পলাশের চোখ অবনিত হয় না। সে তাকিয়ে আছে অন্য এক মনে। সাবিহা ডেকে উঠল, কি হলো তোমার। কিছু বলবে? পলাশ নিঃশ্চুপ।

[গল্পটির চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি কোন ব্যক্তির সাথে আংশিক বা সম্পূর্ণ মিলে যায় তার জন্য লেখক দায়ী নয়।]

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s


%d bloggers like this: