Archive for November, 2012

রক্তে ভেজা ফিলিস্তিনি পদ্মফুল

November 21, 2012

রক্তে ভেজা ফিলিস্তিনি পদ্মফুল

মাহফুজ খান

()

আমার সাধারন জ্ঞান খুব একটা ভালো নয়। যা হোক এই নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই। আজ আফিসে শ্রদ্ধেয় একজন আমাকে অনুরোধ করলেন ফিলিস্তিনিদেরকে নিয়ে কিছু একটা লিখতে। গুগলের কল্যাণে, কিছুটা পড়ালেখা করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। একটু সময় নিয়ে তথ্যবহুল কিছু একটা খুজতে লাগলাম। পেয়ে গেলাম ইসরায়েলের তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক শোলমো স্যান্ডকে যিনি খুবই সাহসিকতার সাথে প্রমাণ করেছেন যে ইসরায়েলই হলো অভিবাসী জনসংখ্যা, আর ফিলিস্তিনিরাই হলো সেখানকার আদি জাতি।

যদি আমার কথায় আপনাদের কারো আপত্তি থাকে তাহলে দয়া করে “The Invention of the Jewish People” (By Shlomo Sand, professor of history, Tel Aviv University) বইটি সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। বইটির টাইটেল নামটির বাংলা অর্থ হলো ইহুদি জাতির আবিষ্কার। বইটি হিব্রু ভাষায় রচিত। তবে বইটির ইংরেজি ভার্সন আছে। বইটি বেশ কয়েক মাস ইসরায়েলে বেস্ট সেলার ছিল।

বইটির আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে যেটুকু ধারনা পেলাম সেটি হল, অধ্যাপক শোলমো স্যান্ড তাঁর ঐতিহাসিক গবেষণায় এই দাবি প্রতিষ্ঠা করছেন যে– ” আদি ইসরায়েলি হিব্রু জাতির বর্তমান বংশধর যদি কেউ হয়ে থাকে, খোদ ফিলিস্তিনি মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় তার দাবিদার। শোলমো স্যান্ড তাঁর দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক, পৌরাণিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ফরেনসিক প্রমাণ উপস্হাপন করেছেন। স্যান্ডের দাবির সারসংক্ষেপ হল: ইহুদিরা কোনো জাতি নয়; জাতি হতে গেলে যে সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও বর্ণগত মিল প্রয়োজন, তা তাদের কোনোকালেই ছিলনা। ইসরায়েলি ইহুদিদের বড় অংশ কখনোই আদি হিব্রু জাতির সদস্যও ছিল না। এমনকি মুসার অনুসারীদেরও ‘জিউ’ বলা হতো না। সেটা ছিল জুডায়ি ধর্ম। তালেবানি ইসলাম যেমন আদি ইসলামের বিকৃতি, জায়নিজমও তেমন জুডায়ি বিশ্বাসের বিকৃতি। বহু নিষ্ঠাবান ইহুদি এ কারণেই জায়নবাদের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।

উইকিপিড়িয়া (http://en.wikipedia.org/wiki/Shlomo_Sand) তে একটু খোঁজ করলাম। দেখলাম সেখানেও একই কথা লেখা আছে। সেখান থেকে কয়েকটি লাইন নিম্নোক্ত উল্লেখ করলাম:

“The Invention of the Jewish People” by Shlomo Sand, professor of history at Tel Aviv University.

“to prove that the Jewish people never existed as a ‘nation-race’ with a common origin, but rather is a colorful mix of groups that at various stages in history adopted the Jewish religion. He argues that for a number of Zionist ideologues, the mythical perception of the Jews as an ancient people led to truly racist thinking.”

Sand argues that most of the Jews were not exiled by the Romans, and were permitted to remain in the country. He puts the number of those exiled at tens of thousands at most. He further argues that many of the Jews converted to Islam following the Arab conquest, and were assimilated among the conquerors. He concludes that the progenitors of the Palestinian Arabs were Jews.”

 ()

যেখানে উন্নত বিশ্বে অকারনে একটি পাখি মারলেও বিচারের সম্মুক্ষীণ হতে হয়, সেখানে ইহুদিরা পাখি মারার মত ফিলিস্তিনিদেরকে হত্যা করছে। সত্যিই খুব অবাক হচ্ছি। কোথাও কোন যুদ্ধ নেই তার পরেও ইহুদিরা ভয়ংকর সব মিসাইল আক্রমণ করছে ফিলিস্তিনি নিরাপরাদ শিশুনারীপুরুষের উপর। এত সাহস ইহুদিরা কিভাবে পাচ্ছে? সমগ্র আরব বিশ্ব নিঃশ্চুপ দর্শক। ইউরোপআমেরিকা যারা কিনা কথায় কথায় ‘Human Rights’ এর কথা বলে, তারা আজ অন্ধ এবং বধির। টেলিভিশনের খবরে বা ইন্টারনেটে গুলিবিদ্ধ, আহত, নিহত মানুষের ছবি তাদের বিবেককে আজ নাড়া দেয় না। কারন খুঁজতে গিয়ে অনুধাবন করলাম যে ফিলিস্তিনিদের দোষ একটাই আর তা হল তারা মুসলিম। মনে প্রশ্ন জাগেমুসলিমরা কি মানুষ নয়? একটি ছোট শিশুকে কিভাবে তারা ধর্ম দিয়ে আলাদা করছে? কোন সভ্য দেশ/জাতি/সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কি এমন হওয়া উচিত?

 ()

ইন্টারনেটে অসহায় ফিলিস্তিনিদের ছবি দেখে নিজেকে স্হির রাখা যায় না। চোখ দুটি ভিজে আসে বারে বারে। হাজার হাজার শিশু বড় হওয়ার আগেই শহীদ হয়ে যাচ্ছে। আজ যদি এতগুলো শিশু তথাকথিত উন্নত দেশগুলোতে নিহত হত, না জানি আজ পৃথিবীর অবস্হা কত না ভয়ংকর হত। তবুও আমরা আশাবাদী যেসমস্ত দেশ আজ বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা এই অন্যায়কে আর প্রশ্রয় দেবে না। ধিক্কার জানাই কাপুরুষ ইহুদিদের। কোন মুসলিম হিসেবে নয়, এই পৃথিবীর একজন মানুষ হিসেব ঘৃণা জানাই কাপুরুষ ইহুদিদের। সমবেদনা ও প্রর্থণা রইল অসহায় কিন্তু সাহসী ফিলিস্তিনি মানুষদের জন্য।

[একটি প্রতিবাদী রচনা]

‘মা’

November 18, 2012

‘মা’
-মাহফুজ খান

মায়ের ভালোবাসায় আমরা খুবই সঙ্গতিপূর্ণ এবং ধৈর্য্যশীলতা অনুভব করি যা কিনা অন্য কোন ভালোবাসায় বিরল। মায়ের ভালোবাসায় খুজে পাওয়া যায় এক গভীর অনুরক্তি, নিস্বার্থ ত্যাগ স্বীকার এবং না জানা অনেক বিশেষ কিছু।

‘মা’- হচ্ছেন সেই মহান ব্যক্তি, যিনি আপনার সবকিছুই বুঝতে পারেন, যা আপনি বলেন এবং করেন। জন্মলগ্ন থেকে সর্বদাই ‘মা’ আপনার পাশে। মনে করে দেখুন একবার আপনার শৈশব স্মৃতিগুলো। আপনি যা কিছুই নতুন নতুন করেছেন তার সব কিছুতেই তিনি অতীব উৎসাহ দেখিয়েছেন। আপনার জন্মলগ্ন থেকে আজ অব্দি পর্যন্ত একমাত্র ‘মা’ ই আপনার পাশে আছেন। সত্যিই ‘মা’ – সৃষ্টিকর্তার এক অসাধারন রহস্য। আপনি অবাক হবেন যখন আপনার বিগত স্মৃতির পাতাগুলো উল্টাতে থাকবেন। ‘মা’ কতবারই না আপনার চোখের অশ্রু মুছে দিয়েছেন। যতবার আপনি ভীত ছিলেন ততবারই তিনি আপনাকে আশ্বস্ত করেছেন। আপনার হৃদয় যতবার ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে ততবারই তিনি নিরাময় করেছেন তার কোমল ভালোবাসা দিয়ে। দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই তিনি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা আপনাকে দিয়েছেন। কতবারই না তিনি চিন্তিত হয়েছেন, যখন আপনি সামান্য অসুখে পড়েছেন। এই অতি মহান ব্যক্তিটিই হচ্ছেন আপনার-আমার ‘মা’। যার যথার্থ সংজ্ঞা দেয়া অসম্ভব। সত্যিই ‘মা’ হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার এক অনণ্য উপহার।

পরিশেষে হযরত ইমাম হুসাইন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি না বললেই নয়,
“তুমি তোমার মায়ের কাছে যাও,
তার সাথে কথা বল,
কেননা মায়ের সাথে কাটানো সময়
কিয়ামতের দিন তোমার নাজাতের উপলক্ষ্য হবে”
-হযরত ইমাম হুসাইন

[একটি অনুপ্রেরণামূলক রচনা]

রূপা ভাবীর ফিরে আসা

November 9, 2012

রূপা ভাবীর ফিরে আসা

মাহফুজ খান

একদিন রূপা ভাবীকে দেখে মনে হয়েছিল যে, তিনি আর সব সাধারন বাঙালী নারীর মতই একজন। ভুলটা ভাঙ্গল সেদিন, যেদিন দেখলাম তিনি ডেলিভারির (সন্তান জন্মদানের) আগের দিন পর্যন্ত আমাদের সাথে অফিসে ছিলেন।

যা হোক, তার কোলে এখন একটি ফুটফুটে পরীর মত মেয়ে। রাজপুত্রের মত একটি পুত্রও আছে। শোনা যাচ্ছে তিনি আবারো তার কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন। নারী অবলা‘- এ কথাটি এখন আর মানতে ইচ্ছে করে না।

তবে জাপানে একটি বিষয় আমি সবসময় লক্ষ্য করি, আর তা হলো এদেশের মেয়েরা অনেক কর্মঠ হয়। আমার দেশের মেয়েরাও কর্মঠ। তবে তা একটি বিশেষ শ্রেণীতে পরিলক্ষিত হয়। কখনো সেটি পরিবার বা দারিদ্রতা কেন্দ্রিক। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন সেটা সমাজ বা জাতী কেন্দ্রিক হোক। রূপা ভাবী কিছুটা হলেও প্রমাণ করেছেন যে, আমাদের দেশের মেয়েরাও ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারে। কেননা ইচ্ছা শক্তি‘, এমন একটি শক্তি যা কিনা একটি বড় পরিবর্তনের মূল কারণ গুলোর অন্যতম।

কাজের স্পৃহা মানব জাতীর জন্য সবসময়ই সুফল বয়ে আনে। আর তা যদি নারীর মধ্যে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় তাহলে তো একটি সমাজ কিংবা দেশের উন্নয়ন হতে বাধ্য। সহজ সরল অংক। কিন্তু একটি অসচেতন নীতিমালা সেই সরল অঙ্কটিকে অনেক জটিল করে ফেলে। ফলে কার্য এবং তার ফলাফল নারীকে বিপদগ্রস্ত করতে পারে। নারী তখর পরগাছা হয়ে বেঁচে থাকে। যা কিনা নারীকে শঙ্কিত ও অসহায় করে। আর যারা নারী উন্নয়নে সর্বদাই বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তারা এই ভেবে আতংকিত যে, যদি সরল অঙ্কটি ভুল হয়। তখন তারা ধর্মের বেড়া জালে নারীকে আবদ্ধ করতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

নারীকন্যাজায়াজননী। যদিও এ কথাটি ধ্রুবক সত্য। তবে আমরা সর্বদাই একটি কথাই বিশ্বাস করতে চাই যে– “মানুষ” শব্দটির মাঝে আমরা সকলে সমান। এক্ষেত্রে পুরুষ এবং নারী উভয় উভয়ের সাহায্যকারী হিসেবে বিবেচিত হওয়া সমীচিন।

আমরা চাই রূপা ভাবীরা বার বার ফিরে আসুক। সমাজে পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুক। একদিন আমার দেশটি জাপানের চেয়েও একধাপ এগিয়ে থাকবে। এই স্বপ্নটি দেখার দুর্দান্ত সাহস করতে বেশ ভালই লাগছে।

ইচ্ছে ছিল রূপা ভাবীকে নিয়ে একটি গণ্প লিখব। গল্পটির নামও ঠিক করেছিলাম– “আমাদের রূপা ভাবী। গল্পটি এখনো লেখা হয়নি। তবে আমি আশাবাদী। সময় করে ঠিকই একদিন লিখে ফেলব।

[একটি চিন্তামূলক রচনা]