Archive for December, 2010

অভিজ্ঞতা

December 29, 2010

অভিজ্ঞতা
-মাহফুজ খান

ফুলের বেড়ে উঠার জন্য
মাঝে মাঝে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়,
সত্যিকারের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য
মাঝে মাঝে প্রকৃত বেদনার স্বাদ নিতে হয়,
আগামীকাল মনে করিয়ে দেয়
গতকাল কেমন ছিল?
হাসির সময় মাঝে মাঝে মনে হতে পারে
দীর্ঘশ্বাসগুলো কেমন ছিল?
ভোরের আলোর গুরুত্ব বুঝতে
মাঝে মাঝে মধ্যরাতের অসহায় একাকীত্বকে মনে হতে পারে,
কোন কিছুর আকস্মিক প্রাপ্তি
মাঝে মাঝে অনেক কঠিন প্রাপ্তিকে মনে করিয়ে দেয়,
মাঝে মাঝে তুমি অবাক হবে এই ভেবে যে,
তোমার হৃদয় কেন ব্যথিত হয়?
কিন্তু এটাই জীবনের কঠিনতম অভিজ্ঞতা
যা তোমার অন্তরে লালন করবে,
আগামী জীবনের মসৃণ পথ চলার।

প্রেমী

December 28, 2010

Love

প্রেমী
-মাহফুজ খান

তোমার মিস্টি হাসি উপভোগ করা
দুটি বাহু দিয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরা
অনাবৃত ঘাড়ে আদর করা
আলতো করে তোমার চুলগুলো শুঁকে দেখা
তোমার ঠোঁটের স্পর্শ নেওয়া
আমার বুকে তোমার বিশ্রাম নেওয়া
এবং তোমাকে গভীরভাবে ভালোবাসা
এ সব কিছুই আমাকে পুলকিত করে,
এবং আমার হৃদয়কে শিহরিত ও পরিপূর্ণ করে।
তোমার অবর্ননীয় ভালোবাসা
আমার হৃদয়কে প্রশমিত করে।
খুব বেশী প্রিয় তুমি,
তোমাকে কাছে পাওয়া ছাড়া
আমি আর কিছুই চাই না।

আকাশ নীলা

December 27, 2010

আকাশ নীলা

মাহফুজ খান

আজ নীলার চোখের বাঁধন খোলা হবে

আকাশের খুব ভয় ভয় লাগছে

কি জানি কি হয়?

নীলাকে খুব চঞ্চলা ও হাসিখুশী দেখাচ্ছে।

একটি দুর্ঘটনায় সে তার দৃষ্টি হারিয়েছিল,

প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে সে কখনই

দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করেনি,

প্রকৃতির মতই অপরূপা সে।

তার জীবনে আকাশ এসেছিল

জীবনের নতুন গান নিয়ে।

তীব্র আকাঙ্খা তার হৃদয়ে আজ,

তাই সে প্রথমেই

আকাশ ও সমুদ্র দেখতে চায়।

কারন এদুটি উপমার সাথে তাদের

ভালোবাসা জড়িত।

ভেজা চোখে নীলা আজ

আকাশ ও সমুদ্র দেখছে,

চোখাচোখি হতেই নীলা প্রশ্ন করল,

আকাশএর মত সমুদ্রও কি এত বিশাল?

আকাশ নীলার ভেজা চোখ দুটি স্পর্শ করল

এবং চেষ্টা করল নীলার চোখের জল মুছে দিতে।

কোমল শান্ত বাতাসগুলো এক অন্যরকম

প্রশান্তি এনে দিল তাদের,

সমুদ্রের ঢেউগুলো তাদের হৃদয়ে

ভালোবাসার দোলা দিয়ে গেল।

তারা অতিক্রম করছে শান্ত সময়কে

প্রকৃতি অতিক্রম করছে

আকাশনীলা কে।

কারা করবে সেই সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার?

December 14, 2010

কারা করবে সেই সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার?
-মাহফুজ খান

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
যা পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।
৭১ এর এই দিনে-
এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গাররা
রাতের অন্ধকারে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন করেছিল।
যারা ‘শান্তি কমিটি’ র নামে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল,
তাদের তো কখনই ক্ষমা করা যায় না।
বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধনের নীল নকশায়,
যারা সৃষ্টি করেছে রায়েরবাজারের বধ্যভূমি সহ
আরো অনেক জানা-অজানা বধ্যভূমি।
আর যাই হোক,
সেই শয়তানদের স্হান তো আর এই দেশ হতে পারে না।
আজ কি শুধু্ই সেইসব বুদ্ধিজীবীদের জন্য-
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন?
বিউগলের করুণ সুরে,
তাঁদের আত্মার প্রশান্তির প্রার্থণা কামনা?
বিশেষ এক মিনিটি নীরবতা পালনে
শুধুই কি কেবল,
তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সন্মান প্রদর্শন করা?
আজ কি শুধুই গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হবে,
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস?
ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ
যারা সেদিন চালিয়েছিল,
কারা করবে সেই সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার?

স্বাধীনতা

December 2, 2010

স্বাধীনতা
-মাহফুজ খান

যে যুদ্ধে যেখানে সেখানে পড়ে ছিল
লাশের উপর লাশের স্তুপ,
এবং সেখানে মিলন মেলা ছিল
শকুন-কাক এবং শিয়াল-কুকুরের।
অবাঞ্চিত ব্যথিত নয়নে দেখতে হয়েছিল
খাল, বিল এবং নদী দিয়ে
শত শত ভাসমান লাশের সারি।
যে মায়ের বুকে পড়ে ছিল দুগ্ধপোষ্য মৃত শিশুটি,
বুটের আঘাতে থেতলে গিয়েছিল
বৃদ্ধ পিতার প্রিয় মুখটি।
সন্তান হারা যে মায়ের দুই অশ্রু নয়নে ভেসে উঠেছিল
উজ্জ্বল স্বাধীনতার স্বপ্ন।
যে যুদ্ধ উপহার দিয়েছিল একটি দেশ-
‘বাংলাদেশ’।
সে যুদ্ধের স্মৃতি-ইতিহাস কি ভোলা যায়?
নয় মাস হার না মানা যে যুদ্ধে,
কত সহস্র নারীর সম্ভ্রম উৎসর্গ করা,
কত লক্ষ তাজা প্রাণের বিসর্জন।
দিন-রাত শুধু ছিল যুদ্ধ এবং যুদ্ধ
অবশেষে এলো বিজয় এবং স্বাধীনতা।
প্রশ্ন জাগে মনে এখন-
কতটুকু আগলে রেখেছি
প্রিয় এই ‘স্বাধীনতা’ নামক অমূল্য সম্পদটিকে?